ভালোবাসার গল্প : ক্যাডবেরি পাগলী (ভাই ও বোনের রোমান্টিক গল্প)

Share
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email
ভালোবাসার গল্প : ক্যাডবেরি পাগলী (ভাই ও বোনের রোমান্টিক গল্প)

ভালোবাসার গল্প ✓✓✓ক্যাডবেরি পাগলী ( ভাই ও বোনের রোমান্টিক গল্প)

ভালোবাসার গল্প ✓✓✓মূল গল্পে আসার আগে পরিচয় পর্ব সেরে নেই যাতে করে আপনাদের গল্পটি বুঝতে অসুবিধা না হয়।

গল্পটি মূলত ভাই ও বোনের। গল্পটিতে ভাইয়ের নাম জয় ও  তার একমাত্র আদুরে বোনের নাম সুমি । জয় ও সুমি তারা দুই ভাই বোন। সকলেই সুমিকে আদর করে ছোট বলে ডাকে। সুমি এবার ক্লাস ওয়ান এ পড়াশোনা করছে। জয় খুলনা ভার্সিটিতে থার্ড ইয়ারে পড়াশোনা করছে।

পরিচয়পর্ব শেষ আসুন এবার মূল গল্পে চলে যাই:-

সুমি:-ভাইয়া, এই ভাইয়া? ঘুম থেকে ওঠ। দ্রুত ঘুম থেকে উঠে আমার ক্যাডবেরি চকলেট দে।
জয়:- (ধড় ফড় করে উঠে) আহহহ… জ্বালাস না তো একটু ঘুমাতে দে।
-আচ্ছা ঘুমা, তবে তার আগে আমার ক্যাডবেরি চকলেট চাই,নয়তো তোকে ঘুমাতে দেবো না।
-মা, ও মা ….. তোমার মেয়েকে থামাবা, নাকি লাথি মেরে বের করবো।
মা:- ছোট,এই ছোট… ওর রুম থেকে চলে এসো, তুমি জানো তো তোমার ভাইয়া কাল রাতে অনেক জানি করে ফিরে এসেছে, তোমার ভাইয়াকে একটু ঘুমাতে দাও নয়তো তোমার ভাইয়া তোমাকে চকলেট দেবেনা।
-হুমমমম, সে তো ঘুমাবেই, চকলেট দেয়ার তো কোন নাম নেই। শুধুই পারে তার ছোট বোনকে বকা খাওয়াতে। ভাইয়া না ছাই, পচা তুই একটা, একদম ভাল না তুই।
ঘুম আর ঘুম, ঘুম তো হলোই না। সকাল সকাল ফিসফিসানি ঘন্টিয়ার ভালোভাবে হয়। তাই আর দেরি না করে ঝটপট উঠে পড়লাম। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে এসে, মা-বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে আমার একমাত্র আদরের ছোট বোন সুমির হাতে দুইটা ক্যাডবেরি চকলেট ধরিয়ে দিলাম। সুমি আমার খুবই আদরের ছোট বোন। আমার রাজত্বের একমাত্র অংশীধারিণী আমার আদরের ছোট বোন। সবাই তাকে আদর করে ছোট বলেই ডাকে।
যাইহোক ছোটর হাতে দুইটা ক্যাডবেরি চকলেট দিয়ে রুমে এসে ফোনটা হাতে নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলাম। এমন সময় ছোটর প্রবেশ। আমার রুমে এসে আমার কানে কানে ফিসফিস করে বললো।
সুমি:- ভাইয়া, জিতু ভাবি এসেছে।
-কি…?
-জিতু ভাবি!
-মানে কী বুঝলাম না? জিতু তোর আবার কবে থেকে ভাবি হলো?
-জানিনা, তবে আপু এটা আমাকে তোমাকেই বলতে বললো।
-ও আচ্ছা, তাহলে এত সবকিছুর মূলে ঐ গাধীটা। এখন বিষয়টা বুঝতে পারছি।
আমি বিষয়টা বুঝতে পারলাম যে, আমার আর হয়তো এখন বাসায় থাকা হবে না। একদিকে আমার আদরের ছোট আর অন্যদিকে জিতু দুইজনে মিলে আমাকে তেজপাতা করে ছাড়বে।
ও হ্যাঁ, জিতু?/ জিতু আমার ছোটবেলার বন্ধু। জিতু মেয়েটা অনেক ভালো। মনে মনে মেয়েটা আমাকে বড্ড ভালোবাসে…। আমিও যে তোকে ভালোবাসি না তা কিন্তু নয়। তবে কি বিয়ের পরে প্রেম করবো এজন্য এখন তাকে তেমন একটা পাত্তা দেই না। তবে আমি আম্মুকে বলে রেখেছি যে আমি জিতুকেই বিয়ে করবো।

-হুমমমম।(গলাটা একটু ঝাড়া দিয়ে) আসতে পারি জনাব……??
-হ্যাঁ আসো আপু।
আমার রুম আর আমার আদেশ উপেক্ষা করেই আসার অনুমতি দিলেন আমার রাজ্যের রাজকন্যা ছোট।
জিতু:- কেমন আছেন জনাব?
কোন উত্তর না দিয়েই আমি জিতুকে বলতে শুরু করে দিলাম..
আমি:- এসব কি জিতু? তুমি ছোটকে এসব কি শিখিয়েছো? আম্মু জানতে পারলে কি হবে জানো??
সুমি:- ভাইয়া আম্মু জানে, আম্মু জানে। তোমাকে আর জিতু আপুকে আম্মু আর আমি একসাথে বিয়ে দিয়ে দেবে। ভাইয়া বলোনা বিয়ে করলে কি হয়?
-ছোট…?? তুই থামবি নাকি থাপ্পড় লাগিয়ে দেবো?
ছোট এবার কান্না জুড়ে দিলো।
সুমি:- তুই খুব পচা। তোর কাছে আমি আর আসব না। তুই আমার ভাই না আমার সাথে তুমি আর কথা বলবে না।
ব্যাস, জিতু তো বিয়ের কথা শুনে লজ্জায় পড়ে গেলো, তার উপর য ছোটর কান্না…যাই হোক জিতু ছোটকে পাঁচটি ক্যাডবেরি চকলেট দিয়ে কোনরকমে ম্যানেজ করে কান্না থামানো আর আমি এ যাত্রায় বেঁচে গেলাম।
সুমি:- জিতু আপু অনেক ভালো, আপু আমাকে প্রতিদিন 5 টি করে চকলেট দেয়। আর তুই একটা পচা পচা পচা পচা।
ওরা দুইজন মিলে হাসতেসে আর আমার প্রচুর রাগ হচ্ছে। ওই জিতু টা আমার আদরের বোন কে চকলেট দিয়ে পটিয়ে নিয়েছে।
যাইহোক এক মাস শেষ এতদিন অনেক মজা করলাম আমার ছোট বোন কে নিয়ে। আসার সময় ও খুব কান্না করছিলো আমাকে যেতে দেবে না বলে। আমারও খুব কান্না পাচ্ছিল কিন্তু আমাকে তো থেমে থাকলে চলবে না আমাকে তো আমার গন্তব্যে পৌঁছাতে হবেই।
প্রায় এক মাস পর ক্রিং ক্রিং ক্রিং আমার ফোন বাজছে। বাসা থেকে ফোন দিয়েছে।
-হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।
…(কান্নার আওয়াজ)
-কি হয়েছে আম্মু কাঁদছো কেনো?
-জয়, ছোটর অবস্থা খুবই খারাপ ও একসিডেন্ট করেছে।
আম্মু অনেক কান্না করছে তাই ফোনটা কেটে গেল। আমি সাথে সাথে ওই রাতেই বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম রাত তখন প্রায় এগারটা। পৌছালাম হাসপাতলে। ছোট নাকি তখন অল্প অল্প কথা বলতে পারছে। তবে ডাক্তার বলেছে অবস্থা খুবই খারাপ। ছুটে গেলাম ওর কেবিনে ওর পাশে যে ও ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকতে শুরু করলো। তবে ডাকের আওয়াজ আমার কান পর্যন্ত পৌঁছানোর না শুধু ঠোঁট নাড়ানো টুকুই বোঝা যাচ্ছিল। সে আমাকে কাছে ডেকে ফিসফিস করে বলল ভাইয়া আমার ক্যাডবেরি কই?? আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। নিজের অজান্তে দু’চোখ বেয়ে জল গড়াতে থাকলো। আমি পকেট থেকে দুইটা ক্যাডবেরি ওকে দেওয়ার জন্য বের করলাম নেওয়ার জন্য হাত বাড়ানোর চেষ্টা করল কিন্তু পারল না। ওর মুখে একটা চুমু দিলাম, তখন ওর মুখের বাঁকা ঠোঁটে হাসি ফুটে উঠল।
রাত তখন ১ টা ছোটর অপারেশন শেষ হওয়ার জন্য আমরা সবাই থিয়েটারের সামনে অপেক্ষা করছি। ডাক্তার থিয়েটার থেকে বের হলো কিন্তু তার মুখ দেখে মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঘটতে চলেছে। কি হয়েছে জানার জন্য ছুটে গেলাম ডাক্তারের কাছে।
ডাক্তার:- মেয়েটিকে আমরা বাঁচাতে পারলাম না।
আমি হয়তো আর কিছু শুনিনি। আমার পৃথিবী আর কিছু শুনতে চায় না। মুহুর্তের মধ্যে থমকে গেছে আমার অস্তিত্ব। আমি একবারে পাথর হয়ে গেছি।
ছোট নেই, আমার বোন আর নেই। আর হয়ত শুনব না কখনোই সেই ডাকটা। আর ডাকবে না ভাইয়া ভাইয়া বলে। আমি পারবো না দেখতে আর সেই বাকা হাসি মাখা মুখটা।
চারিদিকে চিৎকার, বাবার আহাজারি, মায়ের আর্তনাদ, কিছুই তো আমার কানে আসছে না। তাহলে আমার কি হলো আমি কি এই জগতে আছি না অন্য জগতে? তবে কানে শুধু একটা কথাই ভাবছে ভাইয়া এ ভাইয়া আমার ক্যাডবেরি কই?
ভাই বোনের ভালোবাসা কখনো হারায় না কখনো ফুরাবার নয়। ভাই বোনের সম্পর্ক কারো কাছে থাকে স্মৃতি হয়ে আর কারো কাছে থাকে আকাশের তারা হয়ে।

বিদ্র: গল্পটি কেমন হল কমেন্ট করে জানাবেন।

Advertisement

Share
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email

Readers comments

One Response

Comments are closed.

Sponsored

Official Facebook page

Sponsored