ল্যাপটপ কেনার আগে কিছু টিপস

Share
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email
ল্যাপটপ কেনার আগে কিছু টিপস

ল্যাপটপ অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি  ইলেকট্রনিক ডিভাইস। তাই ল্যাপটপ কেনার আগে কিছু টিপস আমাদের অবশ্যই ফলো করতে হবে।   বর্তমানে বাসা বাড়িতে অফিস আদালতে  ডেস্কটপ কম্পিউটারের চেয়ে ল্যাপটপ ব্যবহারের চাহিদা অনেক বেড়েছে। কারণ এটি যে কোনো জায়গায়  বহন যোগ্য।  মানুষ এটাকে খুব সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়  স্থানান্তর করতে পারে।

ল্যাপটপ কেনার আগে কিছু টিপস।

১। বাজেট

ল্যাপটপ কেনার আগে কিছু টিপস এর মধ্যে বাজেট হলো সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।  কারণ আপনার বাজেট কেমন সেটার উপর নির্ভর করছে  আপনার ল্যাপটপ কেমন হবে। যার বাজেট যত বেশি থাকবে তার ল্যাপটপ তত উন্নত মানের এবং ভালো কনফিগারেশনের কিনতে পারবে।  এবং বাজেট যাই হোক না কেন তার মধ্যে সব থেকে  কনফিগারেশনের ল্যাপটপ টাই বাছাই করতে হবে।  সেজন্য আগে আপনাদের বাজেট টা নির্ধারণ করুন।

২। ব্রান্ড

কোন ব্রান্ডের ল্যাপটপ কিনবেন সেটা আপনাকে আগে পছন্দ করতে হবে। আমাদের দেশে বর্তমানে নানা ব্রান্ডের ল্যাপটপ পাওয়া যায়। যেমমঃ Asus, Aser, Dell, Hp, Lenovo, Apple ইত্যাদি।   আপনার বাজেট অনুযায়ী আপনি  যে কোনো একটি ব্রান্ড পছন্দ করতে পারেন।  তবে বর্তমানে Asus, এবং Hp এই দুই ব্রান্ডের ল্যাপটপ বেশি ব্যবহারিত হয়।  তবে Dell ব্রান্ডের ল্যাপটপটাও ভালো।

৩। সাইজ

ল্যাপটপ কেনার সময় সাইজটা অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এটা নির্ভর করে ল্যাপটপটা আপনি কোথায় ব্যবহার করবেন এবং কি কাজে ব্যবহার করবেন। যদি বাসা বাড়িতে ব্যবহারের জন্য কিনতে চান তাহলে একটু বড় দেখে কিনতে পারেন।  কিন্তু অফিসের কাজে ব্যবহার করলে সাইজটা ছোট হলে ভালো হয়। তাহলে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বহণ করতে সুবিধা হয়।

৪। ডিসপ্লে কোয়ালিটি

ল্যাপটপ কেনার আগে অবশ্যই ডিসপ্লে কোয়ালিটির উপর নজর দেওয়া উচিত।  কারণ আপনাকে ডিসপ্লের সামনে বসেই কাজ করতে হবে।  এজন্য ডিসপ্লেটি অবশ্যই এইচ ডি ডিসপ্লে হলে ভালো হয়। এবং আই প্রোটেকশন ডিসপ্লে হলে ভালো হয়।  তাহলে চোখের ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভবনা থাকবে না।

৫। সিপিইউ বা প্রসেসর

প্রসেসর হলো কম্পিউটারের ব্রেইন।  এটা কম্পিউটারের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।  তাই ল্যাপটপ কেনার সময় কোন প্রসেসরটি নিবেন সে দিকে খেয়াল রাখা দরকার। আপনার ল্যাপটপের  পারফরম্যান্স এটার উপরই নির্ভর করবে। বর্তমানে বাজেট সেগমেন্টে ইন্টেলের পাশাপাশি এএমডিও বেশ ভালো মানের প্রসেসর অফার করছে। আপনি চাইলে এএমডি বা ইন্টেলের যেকোনো একটি প্রসেসর সিলেক্ট করতে পারেন।

৬। জেনারেশন বা প্রজন্ম

জেনারেশন এর বাংলা অর্থ হলো প্রজন্ম। জেনারেশন দ্বারা সাধারণত ল্যাপটপটি কোন প্রজন্মের সেটা বোঝানো হয়। নতুন জেনারেশন মানেই আরো বেশি পারফরম্যান্স নতুত সব ফিচারস। তাই ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই জেনারেশনের দিকে লক্ষ রাখা উচিত। কারণ জেনারেশনের উপর অনেক কিছুই নির্ভর করে।

৭। গ্রাফিক্স

ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই ল্যাপটপের গ্রাফিক্স কার্ড দেখে নিতে হবে।  ল্যাপটপে সাধারণত একটি বিল্ট-ইন গ্রাফিক্স কার্ড সংযুক্ত থাকে। তবে আপনি যদি গ্রাফিক্সের কাজ করেন কিনবা ভিডিও এডিটিং এর কাজ করেন বা হাই রেজুলেশন এর গেমস খেলেন তাহলে আপনার অবশ্যই গ্রাফিক্স কার্ডের প্রয়োজন হবে।

৮। RAM

Ram ল্যাপটপের অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।  এটি ল্যাপটপের কাজের গতিকে নির্ধারণ করে। যদি আপনি ল্যাপটপে স্মুথ পারফরম্যান্স পেতে চান তাহলে আপনাকে অবশ্যই ৪ জিবি অথবা তার থেকে বেশি র‌্যামের ল্যাপটপ কিনতে হবে। তাই ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই  র‌্যামের দিকেও লক্ষ্য রাখা উচিত।

৯। হার্ডড্রাইভ

ল্যাপটপের হার্ডড্রাইভ সব সময় বেশি দেখে কেনা উচিত।  কারণ  যেন পরবর্তীতে  প্রয়োজনীয় ফাইল সংরক্ষণের জন্য স্পেসের অভাবে ভুগতে না হয়।  এজন্য ল্যাপটপ কেনার সময় খেয়াল রাখবেন ল্যাপটপের হার্ডড্রাইভ ১ টেরা বাইক হলে খুব ভালো হয়।

১০। ব্যাটারি

ল্যাপটপ কেনার সময় অবশ্যই ব্যাটারির এম্পিয়ার বেশি দেখে কিনতে হবে। ব্যাটারি অ্যাম্পিয়ার যত বেশি হবে ল্যাপটপের চার্জ সার্ভিস ও তত ভালো হবে। এবং ব্যাটারি  এম্পিয়ার বেশি হলে বিদ্যুৎ না থাকলেও অনেক সময় ধরে ল্যাপটপ টি ব্যবহার করা যাবে।

১১। কিবোর্ড

ল্যাপটপ কেনার সময় কিবোর্ডটি সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা অবশ্যই সেটা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে। অনেক সময় কি-বোর্ডের টাইপিং করার সময় কিবোর্ডে পর্যাপ্ত পরিমাণ স্পেস না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হয় এজন্য আপনাকে কম্ফোর্টেবল একটি কিবোর্ড চয়েস করতে হবে।

১২। পোর্ট

ল্যাপটপ কেনার সময় ল্যাপটপে কি পোর্ট রয়েছে সেদিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। লক্ষ্য রাখবেন ল্যাপটপটিতে যেন একের অধিক ইউএসবি পোর্ট থাকে তাহলে বাড়িতে নানা ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে। এবং ল্যাপটপে অন্যান্য সকল প্রকার দরকারি পোট আছে কিনা সেগুলো দেখে নিতে হবে।

১৩। ওয়ারলেস কানেকশন

ল্যাপটপ কেনার সময় ল্যাপটপটিতে কি ধরনের ওয়ারলেস কানেকশন সাপোর্ট করে সেটি দেখে নিতে হবে। এবং  ল্যাপটপে ওয়াইফাই এডাপ্টার আছে কিনা সেটা চেক করে নেবেন। ল্যাপটপের ব্লুটুথ 3.0  এখন পুরনো হয়ে গেছে। ব্লুটুথ 4.0 আছে কিনা সেটি দেখে নিতে পারেন।

মতামত

বর্তমানে বাজারের 20 হাজার থেকে শুরু করে 2/3 লাখ টাকার ল্যাপটপ রয়েছে।  আপনার কেমন ল্যাপটপ  প্রয়োজন সেটা আপনার উপর নির্ভর করে। তবে ল্যাপটপ কেনার সময় উপরিউক্ত সকল বিষয়গুলো  অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

Advertisement

Share
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email

Readers comments

About the author

Author's posts

Sponsored

Related posts

Official Facebook page

Sponsored