ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

Share
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email
ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

আমাদের নিত্য ব্যবহার্য শব্দ গুলোর মধ্যে ডায়াবেটিস অত্যন্ত পরিচিত  একটি শব্দ।  এবং আমাদের আশেপাশে লক্ষ করলেই দেখতে পায় অসংখ্য ডায়াবেটিস রোগী।  এবং এই রোগটি বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করছে। জরিপে দেখা গেছে, ১৯৮০ সালে বিশ্বে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা ছিল যেখানে ১০৮ (১০ কোটি ৮০ লাখ) মিলিয়ন সেখানে তা আজ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২২ (৪২ কোটি ২০ লাখ)। এ থেকেই বুঝা যায় সামনে দিনে পরিস্থিতি আরো কত ভয়াবহ হতে চলেছে।  তাই ডায়াবেটিসকে  প্রতিরোধ করার জন্য কিনবা নিয়ন্ত্রণ রাখার জন্য  আমাদেরকে ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে জানতে হবে।

ডায়াবেটিস কমানোর উপায়

১। প্রচুর পরিমাণে হাটতে হবে

ডায়াবেটিস কমানোর উপায় সম্পর্কে আমাদের সবাইকে জানতে হবে।   ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক সেরা ব্যায়ামগুলোর মধ্যে একটি হলো হাঁটাহাঁটি।   ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে রাখার সবচেয়ে কার্যকারী উপায় হলো হাঁটাহাঁটি করা।  যতো বেশি পরিমাণে হাঁটাহাঁটি করা যাবে ডায়াবেটিস তত কন্ট্রোলে চলে আসবে।  প্রতিদিন নিয়ম করে সকাল এবং বিকালে দুই বেলা হাঁটতে হবে।  এবং দিনে  অন্তত ৪০মিনিট হাঁটাহাঁটি করলেই আপনার বিপাকীয় হার এমন পর্যায়ে চলে আসবে যা আপনার দেহে ইনসুলিনের মাত্রাকেও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখতে সাহায্য করবে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও অনেক কমে আসবে।   তাই প্রচুর পরিমাণে হাঁটাহাঁটি করুন।

২। । প্রচুর পরিমানে পানীয় জল পান করতে হবে

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ঘন ঘন পানীয় জল পান করা উচিত।  এতে দেহে রক্তে  সুগারের পরিমাণ অনেক  কমে যায়।  এবং ডায়াবেটিসের পরিমাণ কমাতে সহয়তা করে।   কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ডায়াবেটিস রোগীরা  বেশি জল খাওয়ার  ফলে রক্তের চিনি নিয়ন্ত্রণ এবং ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া আরও ভালো হয়েছে। ডায়াবেটিসে পানি পানে ব্লাড সুগার হ্রাস পায়।

৩। শরীরের ওজন কমিয়ে ফেলা

স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে এবং দেহের ওজন স্বাস্থ্যকর মাত্রায় নিয়ন্ত্রিত রাখার মধ্য দিয়ে শুধু ডায়াবেটিসই নয় বরং আরো নানা ধরনের রোগ বালাই থেকে মুক্ত থাকা যায়। স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৭০% কমে আসবে। তাই শরীরের ওজন কমানোর জন্য আমাদেরকে কঠোর পরীশ্রম করতে হবে কিনবা নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

৪। বেশি করে সালাদ খেতে হবে

প্রতিদিন অন্তত ১ বাটি করে সালাদ খেতে হবে। যার মধ্যে থাকবে গাজর, টমেটো,  শসা, পেয়াজ,  রসুন,  ইত্যাদি।  প্রতিদিন দুপুরে কিনবা রাতে খাবার খাওয়ার আগে এই সালাদ খেতে হবে।  সালাদের মধ্যে এক চামচ ভিনেগারও যুক্ত করতে পারেন।  ভিনেগার রক্তকে কমমাত্রায় সুগার শোষণে সহায়তা করে। আর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও কমবে।

৫। দানা জাতীয় খাদ্য বেশি পরিমাণে খেতে হবে

দানা জাতীয় খাদ্য  বা পূর্ণ শস্য জাতীয় খাদ্য যেমনঃ  ওটমিল, বার্লি, ব্রাউন রাইস, ভুট্টা, বাজরা ইত্যাদি দানা জাতীয়  খাদ্য দিয়ে সকালের নাস্তা করুন। পূর্ণ শস্য জাতীয় খাদ্যে আছে আঁশ, যা রক্তে সুগারের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে । ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও অনেক কমে। এছাড়া পূর্ণ শস্যজাতীয় খাদ্য বা দানা জাতীয় খাদ্য খেলে  কোষ্ঠকাঠিন্য, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি রোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

চা এবং কফি পান করা

চা এবং কফি   পান করুন। একটি গবেষণায় প্রমানিত হয়েছে প্রতিদিন অন্তত দুই কাপ চা কিনবা কফি খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসে  ২৯%। তবে চিনি ছাড়া চা কিনবা কফি পান করতে হবে। চা, কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান এই কাজ করে।

ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন

ফাস্টফুড এড়িয়ে চলুন আজকাল চাইলেই হাতের কাছে পাওয়া যায় নানা ধরনের ফাস্টফুড। যা দেখে হয়তো লোভ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। কিন্তু , পিজ্জা, বার্গার এর মতো ফাস্টফুড  খাবার খেলে স্থুলতা, উচ্চ কোলেস্টেরল, হজমে সমস্যা এবং হৃদরোগের মতো নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এবং ডায়াবেটিস রোগীদের হজম ক্ষমতা অনেক কম থাকে তাই এসব ফাস্টফুড থেকে দূরে থাকায় শ্রেয়। এসব খাবার দেহে ইনসুলিনের মাত্রাকে ক্ষতিকারকভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। যা থেকে ডায়াবেটিসও হতে পারে।

খাদ্য তালিকায় নিয়মিত তেল বা পাউডার আকারে দারুচিনি খান

দারুচিনি খান দারুচিনি তেল বা পাউডার আকারে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে আসে ৪৮%! এটি একটি  গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, দারুচিনিতে আছে অস্বাস্থ্যকর কোলোস্টোরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইড এর মাত্রা কমিয়ে আনার প্রাকৃতিক সক্ষমতা। আর এই দুটি উপাদান প্রাকৃতিক ভাবে কমিয়ে আনতে পারলে রক্তে সুগারের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও অনেক কমে আসে।

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকুন

স্ট্রেস বা মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকুন মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো ভয়াবহ রোগও হতে পারে অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে। সুতরাং আপনি যদি এমন কেউ হন যিনি প্রায়ই তীব্র মানসিক চাপে থাকেন তাহলে রিল্যাক্স করার নানা কৌশল এবং যোগ ব্যায়াম করে স্ট্রেস কমান। এতে আপনার দেহে কর্টিসোল হরমোনের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ও অনেকটা কমাবে।

ধূমপান থেকে বিরত থাকুন

ধুমপান ত্যাগ করুন স্ট্রেসের মতোই ধুমপানও নানা ধরনের মারাত্মক রোগের আরেকটি কারণ। ফুসফুস ক্যান্সার এর মতো ভয়ঙ্কর রোগের পাশাপাশি ডায়াবেটিসেরও একটি কারণ ধুমপান। সুতরাং ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে না চাইলে আজই ধুমপান ছেড়ে দিন।

Share
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on skype
Share on email

Readers comments

About the author

Author's posts

Sponsored

Official Facebook page

Sponsored